দক্ষিণ রায় ও দুখে


শেষকালে দক্ষিণ রায় কোনও পথ না পেয়ে আত্মরক্ষার জন্য বড় গাজির কাছে আশ্রয় নিলেন।এই বড় গাজি না বরকান গাজি হলেন বনের সব ধন সম্পত্তির দেবতা।ইনি জাতীতে মুসলমান।এর পিতার নাম শেখ সিকান্দার।শেখ সেকেন্দারের ছিল অধেল ধন রত্ন।তিনি সমস্ত ধন সম্পত্তি ভাটি অঞ্চলে মাটিতে পুতে রাখতেন।বরকান গাজি আবার দক্ষিণ রায়ের আদিগুরু।মা বনবিবির কল্যাণে সাজ্জংলি বিনা বাধায় বাদাবন পার করতেন।কোনও হিংস্র জন্তু তার পথ অতিক্রম করতে পারল না। সামনে পরল নদী।মায়ের কল্যানে তা এক হাঁটু জল হয়ে গেল সাজ্জংলি তা অনহাসেই পার হয়ে গেল।দক্ষিণ রায় কুমীরদের বললেন তারা যেন সাজ্জংলি কে ভক্ষণ করে ফেলে,কুমীরর দল মার মার শব্দ করতে করতে এগিয়ে গেলেন কিন্তু উন্মত্ত সাজ্জংলির হাতে খাপরা দেখে তারা ভয়ে পালিয়ে গেল।দক্ষিণ রায় সাজ্জংলির হাত থেকে বাঁচবার জন্য বরকান গাজির পায়ে উপুড় হয়ে পরে বললেন গুরুদেব বাঁচান,সাজ্জংলি সেখানে হাজির তিনি তো দক্ষিণ রায়  কে মেরেই ফেলেবেন এত রাগ  তার।
কিছুতেই আর থামানো যায় না তাকে অনেক কষ্টে বরকানগাজি সাজ্জংলি কে থামিয়ে দক্ষিণ রায় কে বললেন বনবিবিকে ‘মা’ বলে সম্বোধন করতে,এবং আর বললেন যে এই কুকর্ম তিনি করবেন না।তখন বনবিবি ও সাজ্জংলি তাকে ক্ষমা করলেন।তারা দক্ষিণ রায় কে বললেন দুখে কে বাড়ি ছেরে আসতে।বরকান গাজি দুখেকে সাত গারি ধন রত্ন দিলেন।দক্ষিণ রায় দুখেকে ভহি বলে ডাকলেন।
এরপর দক্ষিণ রায় ডাকলেন তার বন্ধু কালু রায় কে।কালুরায় আবার কুমীরের দেবতা।তিনি দুখেকে পিথে বসিয়ে দেশের ঘাটে নামিয়ে এলেন।
এদিকে ধনা মোনা সপ্তদিঙ্গা বোঝায় করে মধু ও মোম সংগ্রহ করে এনে তা বিক্রি করে বিশাল সম্পত্তির অধিকারিণী হলেন।
দুখের মা তারা ফিরে এসেছে শুনে ধনার বাড়ীতে ছুটে এলেন,নিষ্ঠুর ধনা জানালেন জঙ্গলে কাঠ আনতে গিয়ে দুখে প্রান হারিয়েছেন।এই শুনে দুখের মা দিন রাত কাদতে লাগলেন এবং বনবিবিকে ডাকতে লাগলেন।
এমন সময় দুখে মা মা বলে চিৎকার করতে করতে মায়ের কোলে এসে ঝাঁপিয়ে পড়লেন।ছেলেকে আদরে বুকে তুলে নিলেন তিনি।

তারপর দুখের মুখ থেকে সব ঘটনা শুনে তার বুঝতে দেরি হল না যে তার ছেলে বনবিবির জন্য আজ বেচে ফিরে এসেছেন।

Comments